ভ্রমণচারীর ফেসবুক গ্রুপে এখনও যূক্ত হন নাই! এক্ষুনি যূক্ত হোন

গোলাপ গ্রামঃ ঠিক যে কারনে বারবার যেতে চাই

একঘেয়ে বিরক্তিকর ক্লাস, ল্যাব, সিটি, মিড, টার্ম ফাইনাল, টিউশানি, নিজের পড়াশুনা- ব্যস্ততার জানি কোনো অবসান নেই!

৯ টা ৫টার যন্ত্রনাময়ী অফিস, সংসার জীবনের ব্যস্ততা জীবনের সকল সজীবতাকে শুষে নির্জীব করে তুলেছে। ক্লান্তি, আবসাদ আর দুশ্চিন্তা জীবনের সব অমৃত রষ আস্বাদন করে ফেলেছে। বলছিলাম কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কথা, বলছিলাম পেশাজীবি মানুষের কথা। এ যেন প্রবলভাবে সত্য রাজধানীর কর্মব্যস্ত প্রতিটি মানুষের জন্য। আদত এ থেকে কি মুক্তি নেই?

বিনোদন মানুষকে চাঙ্গা করে তুলে, কর্মক্ষেত্রে কার্যক্ষম করে তোলে, পড়াশুনায় মনোযোগী করে তোলে, এ সত্য কারও অবিদিত নয়।

ক্লান্তিকর আর একঘেয়েমি যান্ত্রিক জীবন থেকে মুক্তির সবচেয়ে জনপ্রিয় উপায় হলো  ভ্রমন, ঘোরাঘুরি ইত্যাদি। কিন্তু এক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষের মস্তিস্কে কয়েকটি দ্বিধা উকি দেয়। দূরে কোথাও ট্যুর দিতে হবে, এত ছুটি পাওয়া যাবে কিনা আবার সেক্ষেত্রে তো অনেক খরচা হয়ে যাবে আছে সেরকম যথেষ্ট পয়সা কি আমার আছে?

আমার মনে এমন সব উকি দেয়, আপনাদের অনেকের মনেও উকি দিতে পারে বস্তুত এমন মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক। এসব প্রশ্নকে মোকাবিলা করার মত যথেষ্ট সামর্থ, সময় ও অর্থ সবার নেই।

তাই বলে আমরা কি বসে থাকব? একঘেয়ে বিরক্তিকর কর্মব্যস্ত জীবনে দগ্ধ হতে থাকব?

না অবশ্যই।

কেমন হয় যদি ঘোরার মতো তেমন জায়গা ঢাকার আশেপাশে কোথাও থাকে? আবার সেটা যদি হয় দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসার মত? তার উপর যাতায়াত, খাওয়া-দাওয়া আর ঘোরাঘুরি খরচ যদি হয় খুবই সামান্য। কোনো কথায় নেই তাইনা?

হ্যাঁ। এমনই একটি ঘোরার মতো জায়গা গোলাপ গ্রাম (Golap gram)।

ভোঁগোলিক অবস্থান

ঢাকার সাভার থানার বিরুলিয়া ইউনিয়নের সাদুল্যাপুর, শ্যামপুর ও আশেপাশের কয়েকটি গ্রাম নিয়ে গোলাপ গ্রাম (rose village) গড়ে উঠেছে। গোলাপ গ্রামের অবস্থান এককথায় বলতে গেলে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের সাদুল্যপুর গ্রামে।

গোলাপ গ্রামে কী কী দেখব?

অনেক বকবকানি করলাম।

আসল কথায় তো বলা হলো না। আসেন বলে দেই ওইখানে আহামরি কি আছে! নাকি অযথাই ঢাকঢোল পিটাচ্ছি।

গোলাপ ভালবাসেন?

-নিশ্চয়ই।

কখনো কি চিন্তা করেছেন কেন ভালবাসেন? কখনো কি ভেবেছেন যুগে যুগে কেন ভালবাসার প্রতিক হিসাবে গোলাপ ব্যাবহৃত হয়? কখনও কি চিন্তা করেছেন, ফুলের রাণী গোলাপের শুভ্রতা কেন মানবমনে অসাধারন ভালবাসার দোলা দেয়?

হয়ত বা হয়বা না।

এক লাইনে এতগুলো প্রশ্নের উত্তর করার দুঃসাহস আমি দেখাতে চাইনা। তবে গভীর অর্থঅন্বেসু মানুষ যদি না হয়ে থাকেন, তবে দুঃসাহস করাই যায়।

হুম। গোলাপের ধর্ম এমনই। স্রস্টার এক আশ্চর্য সৃষ্টি। মানবমনকে প্রফুল্য করার, আলোড়িত করার সীমাহীন ক্ষমতা।

একটু চোখ বন্ধ করুন তো। কল্পনা করুন চোখের সামনে সারি সারি গোলাপের বাগান, প্রতিটা ডালে প্রস্ফুটিত হয়ে আছে টকটকে লাল গোলাপ।

চারদিকে সুনসান নিরবতা, নিস্তব্ধ-নিঝুম। এমন সময় পড়ন্ত বিকেলের কুসুম কোমল রৌদ্রের আভা স্তিমিত হয়ে ফুটন্ত গোলাপের ডালে আলো- আধারীর খেলা করছে।

চিন্তা করতে করতে একটু হাটুন তো। সামনেও একই দৃশ্য, কিন্তু পুরোপুরি এক না- নতুন প্রজাতির, নতুন রঙের তাজা তাজা গোলাপ। হাটতে পারছেন না, গোলাপের মন মাতানো সুবাস যেন আপনার চেতনাকে ধীরে ধীরে বশীভূত করে ফেলসে। চোখ খুললেন। এ যে গোলাপের রাজধানী সাদুল্যপুর!

ডিভাইন পিস, ইজন্ট ইট?

গোলাপ গ্রামে যা যা দেখার আছে

A boy showing a bouquet of roses in golap gramA boy showing a bouquet of roses in golap gram
  • সারি সারি গোলাপের বাগান।
  • ফুটন্ত তাজা তাজা গোলাপ দেখতে পারবেন, স্পর্শ করতে পারবেন, ঘ্রান নিতে পারবেন- চাইলে “উনার” জন্য ১৫-৩০ টাকা দামে বিশাল একতোড়া গোলাপ কিনে দিতে পারবেন। [উনি কিন্তু অনেক খুশি হবে :3]
  • পুরো গ্রামের অধিকাংশটা জুড়েই রয়েছে গোলাপ বাগান। জনপ্রিয় মিরিন্ডা প্রজাতির গোলাপের পাশাপাশি বিরল অনেক প্রজাতির গোলাপও দেখতে পাবেন।
  • গোলাপ ছাড়াও- গ্লাডিওলাস, জারভারা, রজনীগন্ধা ইত্যাদি ফুলের বাগান দেখতে পাবেন। তবে বছরের সবসময় এসব জাতের ফুলের দেখা মিলতে নাও পারে। চিন্তার কারন নেই- সারাবছর গোলাপ পাবেন।
  • আমরা যারা ঢাকাতে থাকি, তারা গ্রামীন পরিবেশ-আবহাওয়ার প্রতি প্রবল টান অনুভব করি। গোলাপ গ্রামে গেলে পরিপূর্ণ গ্রামীন আবহের স্বাদ নিতে পারবেন।
  • গোলাপ গ্রামে যাবার পথেই রাস্তার দুই ধারে সারি সারি গোলাপের বাগান দেখতে পাবেন। দৃশ্যটি কিন্তু বেশ উপভোগ করার মতো।
  • শীতলক্ষা নদীর পাড়ের এই গ্রামটিতে উচু-নিচু আকাবাকা মেঠোপথ গ্রামের ভিতর দিয়ে চলে গেছে। গ্রামের মেঠোপথ, মাঠের আইলের উপর দিয়ে হেটে-হেটে সূর্যাস্ত দেখার আনন্দ উপভোগ করতে পারেন। কথা দিচ্ছি, মনে রাখার মত অভিজ্ঞতা হবে।
  • সাদুল্যপুর তথা গোলাপ গ্রাম সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের ভেতর পড়ে। গোলাপ গ্রাম গেলে তাই আরামছে বিরুলিয়া জমিদার বাড়ি ঘুরে আসতে পারবেন। তাছাড়া লেক আয়ারল্যান্ডখ্যাত মিনি চিড়িয়াখানাতেও ঘুরে আসতে পারেন।

গোলাপের হাটঃ যেখানে শুধুই গোলাপের পসরা বসে

গ্রামে বাসা হলে, গ্রামের হাট দেখেছেন।হুমম, ধরে নেওয়াই যায়। গ্রামের হাট দেখে বাল্যকালে আবিষ্ট হয়নি এমন মানুষ খুব কমই আছে।

আমি হলফ করে বলতে পারি, ছোট বেলাই বাবার হাত ধরে হাটে যাওয়ার সেই ব্যতিক্রমধর্মী উন্মাদনা অনেককেই প্রবলভাবে টানে।

ঠিক সেরকম না হলেও গোলাপের হাটে, একটু হলেও তেমন ফিল পাবেন বলা যায়। টেমটেড :3 ?গোলাপ চাষীরাই এখানে গড়ে তুলেছে গোলাপের হাট। এই হাটের অবস্থান শ্যামপুর গ্রামে, আবুল কাসেম মার্কেটের সামনে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় এখানে হাট বসে যা গভীর রাত অবধী চলে। ঢাকা থেকে পাইকারি এবং খুচরা ব্যাবসায়ীরা স্বল্প স্বল্পমূল্যে এখান থেকে গোলাপ কিনে নিয়ে যায়।

গোলাপ গ্রাম ভ্রমনঃ কাদের জন্য

গোলাপ ফুল কে না ভালবাসে?

দাড়ান। সব বয়সের মানুষের ভাললাগার কথা না। মানুষের ভাললাগা- খারাপ লাগাকে পরিবেশ, বন্ধু-বান্ধব যেমন প্রভাব ফেলে, ঠিক তেমনি মানুষের “হরমোন” একইভাবে বা বেশিরভাগক্ষেত্রে  অধিকভাবে প্রভাবিত করে।

সেই হিসাবে ৩৩-৪৮ বছর বয়সী পুরুষের মনে গোলাপ ফুল তেমন দাগ কাটতে নাও পারে। তেমনি ছোট বাচ্চা, কিশোর-কিশোরীদের জন্যেও একই কথা প্রযোজ্য।

কিন্তু! কাদের ভাল লাগতে পারে?

  • ফ্যামিলি টাইম স্পেন্ট করতে যারা অধিকতর ভালবাসে।
  • বয়স্ক।
  • সদ্য বিবাহিত কাপল।
  • প্রেমিক-প্রেমিকা যুগল।
  • সদ্য যৌবনা তরুন-তরুনী।

লিখতে লিখতে বড্ড লজ্জা পাচ্ছি 😛

গোলাপ গ্রাম কিভাবে যাব?

ঢাকা থেকে অনেকগুলো রুটেই গোলাপ গ্রাম যাওয়া যায়। তবে সবচেয়ে সহজ রুট হল মিরপুর-আকরান বাজার-সাদুল্যপুর(গোলাপগ্রাম)। আপনার সুবিধার্থে এটা ছাড়াও আরও যে কয়টা রুটে গোলাপ গ্রাম পৌঁছান যায় তা বিস্তারিতভাবে নিচে সন্নিবেশন করা হল।

গোলাপ গ্রাম কিভাবে যাব
গোলাপ গ্রাম যাবার সহজ উপায়

উপায়-১ঃ মিরপুর-বিরুলিয়া ব্রিজ-আকরান বাজার-গোলাপ গ্রাম(সাদুল্যপুর)

আমার মতে এই রুটই সবচেয়ে সহজ, নিরাপদ এবং স্বল্পসময়ে পৌঁছানোর জন্য সবচেয়ে বেশি উপযোগী। মিরপুর থেকে বেড়িবাধ হয়ে বিরুলিয়া ব্রিজ দিয়ে লেগুনাগুলি আকরান বাজার- খাগান হয়ে চারাবাগ পর্যন্ত যায়।

কিন্তু কিভাবে যাবেন?

প্রথমে ঢাকার মিরপুর-১ নাম্বার আসুন। ১ নাম্বার থেকে মাজার রোডের দিকে ৫ মিনিট হাটুন। অথবা রিকশাওয়ালাকে বলুন চারাবাগগামী লেগুনা স্ট্যান্ডে নিয়ে যেতে। ১৫ টাকা ভাড়া নিবে। চারাবাগগামীলেগুনাতে উঠে পড়ুন। বলবেন আকরান বাজার নামবেন। ২০ টাকা ভাড়া পড়বে। এবার রিকশা অথবা অটো নিয়ে গোলাপ গ্রাম(সাদুল্যপুর) চলে যান। রিকশা করে আকরান বাজার থেকে গোলাপ গ্রাম( সাদুল্যপুর) পর্যন্ত ন্যায্য ভাড়া ৪০ টাকা, আর অটোতে ২০ টাকা।

আসুন এই রুটে আপনার যাতায়াত খরচ হিসাব করে দেই*

  • মিরপুর -১ হতে রিকশা করে চারাবাগগামী লেগুনা স্ট্যান্ড ভাড়া- ১৫ টাকা/=
  • লেগুনাতে আকরান বাজার পর্যন্ত ভাড়া- ২০ টাকা/=
  • আকরান বাজার থেকে রিকশা/অটোতে ভাড়া- ২০/৪০ টাকা/=

সর্বমোট=৫৫ টাকা(আকরান বাজার থেকে অটো নিলে) এবং ৭৫ টাকা(আকরান বাজার থেকে রিকশা নিলে)

সময়ঃ এই রুটে মিরপুর থেকে গোলাপ গ্রাম পর্যন্ত যেতে বড়জোর দেড় ঘন্টা লাগবে।

উপায়-২ঃ ট্রলার বা নৌকায় চড়ে গোলাপ গ্রাম

মজা করছেন না তো? সত্যি নৌকায় চড়ে যাওয়া যায়?

হ্যাঁ। শীতলক্ষা নদীর পাড়ের গোলাপ গ্রামে (golap gram) আপনি ট্রলারে চড়ে যেতে পারবেন। এমনিতেই শীতলক্ষা নদী সুন্দর তারপর এই নদীর সমতল দুই পাড় এ সৌন্দর্যকে বহুগুন বাড়িয়ে দিয়েছে। নদীর শান্ত-সুনসান বাতাস গায়ে মেখে নদীর দু’পাড়ের মায়াময়ী সবুজ-শ্যামল বাংলার নয়নাভিরাম রুপ উপভোগ করতে করতে যেতে চাইলে ট্রলার হতে পারে আপনার প্রথম পছন্দ। বিকেলের পড়ন্ত রোদে শীতলক্ষা নদীতে এই ট্রলার ভ্রমন, নিশ্চিন্তে আপনার মন ছুয়ে যাবে।

আর সইছে না, যাবার উপায় বল ব্যাটা!

  • মিরপুর-১ থেকে কীরনমালা বা আলিফ বাসে চড়ে দিয়াবাড়ি রোডের মোড়ে চলে আসুন। এইটুকুপথ রিক্সা অথবা লেগুনাতে করেও আসতে পারেন। সময় লাগতে পারে ১০-১৫ মিনিট।
  • এরপর দিয়াবাড়ি রোডের মোড় থেকে দিয়াবাড়ী ঘাটে নামুন।
  • দিয়াবাড়ী ঘাট থেকে ট্রলার বা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় উঠে পড়ুন। ট্রলার বা নৌকা থেকে সাদুল্যপুর ঘাটে নেমে পড়ুন। সময় লাগতে পারে ৪০ মিনিট।
  • সকাল। ভোর সাড়ে ৫ টাই প্রথম ট্রলার ছেড়ে যায়, আর শেষটা বিকাল ৫ টা ৩০ এ।

আসুন আপনার ভাড়ার হিসাবটা করে দেই

  • মিরপুর-১ থেকে দিয়াবাড়ী রোডের মোড় পর্যন্ত আসতে ভাড়া= ৫ টাকা(বাসে ও লেগুনাতে)/ ৩০ টাকা(রিকশাযোগে)।
  • দিয়াবাড়ী ঘাট থেকে সাদুল্যপুর ঘাট পর্যন্ত ভাড়া= ২৫ টাকা।

সর্বমোট= ৩০ টাকা(বাস/লেগুনা+ট্রলার/নৌকাযোগে), ৫৫ টাকা( রিক্সা+ট্রলারযোগে)

উপায়-৩ঃ সাভার বাস স্টপেজ-পোলো মার্কেট-কমলাপুর-গোলাপ গ্রাম

ঢাকা/দেশের অন্য প্রান্ত থেকে আসলে সাভার বাস স্টপেজে নামুন। সাভার বাস স্টপেজ থেকে পোলো মার্কেট চলে আসুন। রিকশা মামাকে ২০ টাকা দিলে পোলো মার্কেট নিয়ে যাবে। পোলো মার্কেট থেকে রিকশা করে সরাসরি গোলাপ গ্রাম যেতে পারবেন।

উল্লেখ্য সাভার বাস স্টপেজ থেকে সরাসরি রিকশা পেয়ে যেতে পারেন।

আসুন যাতায়াত ভাড়া হিসাব করে দেই*

সাভার বাস স্ট্যান্ড থেকে/ পোলো মার্কেট থেকে সরাসরি রিকশা করে আসলে ন্যায্য ভাড়া ৬০ থেকে ৮০ টাকা। অটোতে করে আসলে ২০ টাকা পড়বে।

সর্বমোট= ৬০-৮০ টাকা রিকশাতে এবং অটোতে ২০ টাকা।

উপায়-৪ঃ আশুলিয়া বাজার- চারাবাগ-আকরান বাজার-গোলাপ গ্রাম

ঢাকা থেকে বা দেশের অন্য প্রান্ত যেখান থেকেই আসুন না কেন, আগে আশুলিয়া বাজার নামুন। আশুলিয়া বাজার থেকে চারাবাগগামী লেগুনা অথবা রিকশাই উঠে পড়ুন। চারাবাগ থেকে মিরপুরগামী লেগুনাই চড়ে আকরান বাজার নামুন। এক্ষেত্রে ১০ টাকা পড়বে। আকরান বাজার থেকে রিকশা(৪০ টাকা ভাড়া) বা অটোতে(২০ টাকা ভাড়া) করে গোলাপ গ্রাম চলে আসেন।

উপায়-৫ঃ সাভার(সিএমবি/জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়)-খাগান বাজার-আকরান বাজার-গোলাপ গ্রাম

ঢাকা বা দেশের যে প্রান্ত থেকেই আসুন না কেন (যাদের সাভার হয়ে ঢাকা যাওয়া লাগে) সিএমবি/ জাহাঙ্গীরগর বিশ্ববিদ্যালয় নেমে পড়ুন। জাহাঙ্গীরগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেট বরাবর নামলে সিএমবির সামনে আসুন(আপনি কোনদিক থেকে আসছেন এটির উপর নির্ভর করে ফুটওভার ব্রিজ পার হওয়া লাগতে পারে)।

ওকে, সিএমবি আসলেন। এখন খাগান বাজারগামী অটোতে উঠে পড়ুন। রিকশাতেও যেতে পারেন চাইলে। খাগান বাজার থেকে লেগুনাই উঠুন। লেগুনায় চড়ে আকরান বাজার আসুন। চাইলে এইপথটুকুও রিকশা করে যেতে পারেন। আকরান বাজার থেকে রিকশা বা অটোতে করে  এবার গোলাপ গ্রাম চলে যান।

খাগান বাজার থেকে চাইলে সরাসরি রিকশা নিয়েও গোলাপ গ্রাম যাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে ভাড়া পড়বে ৬০-৮০ টাকা।

আসুন এই রুটে আপনার যাতায়াত ভাড়া হিসাব করে দেই*

  • সিএমবি থেকে খাগান বাজার অটোতে ভাড়া= ১৫ টাকা/=
  • খাগান বাজার থেকে লেগুনাতে আকরান বাজার পর্যন্ত ভাড়া=১০ টাকা/=
  • আকরান বাজার থেকে গোলাপ গ্রাম পর্যন্ত অটোতে ভাড়া= ২০ টাকা/=

সর্বমোট=৪৫ টাকা। তবে উপরিউল্লিখিত ধাপগুলোতে রিকশা ব্যাবহার করলে ভাড়া স্বভাবতই বাড়বে।

গোলাপ গ্রাম যাবার উপযুক্ত সময় কখন?

মিনহাজ উল ইসলাম

গোলাপ গ্রামে সারাবছর জুড়েই গোলাপ পাওয়া যায়। তবে শীতের মৌসুমে গেলে সুন্দর সুন্দর ফুল দেখতে পারবেন, আই মিন মানসম্মত গোলাপ দেখতে পাবেন, তবে ক্ষেতজুড়ে গোলাপ দেখতে চাইলে গ্রীষ্মকাল উৎকৃষ্ট সময়। সেক্ষেত্রে জুন-জুলাই অধিকতর উপযোগী।

কোথায় খাবেন?

প্রথম কথা গোলাপ গ্রাম কোনো পরিকল্পিত পর্যটন স্থান নয়। গোলাপ চাষীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়ে ওঠা সারিসারি গোলাপের বাগান। স্বভাবতই এখানে খাবার হোটেল বা রেস্টুরেন্ট গড়ে ওঠার কথা নয়। তবে কিছু মুদির দোকান- চায়ের দোকান পাবেন যা থেকে হালকা-পাতলা নাস্তা করতে পারবেন।

সরচেয়ে ভাল বুদ্ধি হল ঢাকা থেকে দুপুরের খাবার কিনে নিয়ে যাওয়া। আর যদি ফ্যামিলি টাইম কাটাতে যান, তবে রান্না করে নিয়ে যান, ব্যাপারটার মজাই আলাদা।

আর হ্যাঁ। সকালে রওনা দিলে, সাদুল্যপুর ঘাটে নেমে হালকা-পাতলা চা-নাস্তা করে নিতে পারবেন।

গোলাপ গ্রামে নামাজ পড়বেন কোথায়?

অবশ্যই মসজিদ রয়েছে। তবে মসজিদ ব্যতিত আলাদা কোথাও নামজের ব্যবস্থা নেই। আশেপাশের বাড়িগুলোতে নামাজ আদায় করার জন্য অনুমতি চাইলে হয়ত পাবেন, তবে তা না করাই যৌক্তিক হবে।

ভ্রমণচারী টিপস

  • শীতের মৌসুমে শীতলক্ষা নদীর পানি কম থাকায় ট্রলার নাও পেতে পারেন, তবে অবশ্যই নৌকা অথবা ইঞ্জিনচালিত নৌকা পাবেন।
  • পরিবারের অনেকে মিলে বা গ্রুপ হয়ে গেলে ভেঙ্গে ভেঙ্গে না গিয়ে উপরিউল্লিখিত প্রতিটা রুটের আরম্ভস্থান থেকেই সুবিধামত যানবাহন রিজার্ভ করে চলে আসতে পারবেন।
  • গোলাপ গ্রামে ভালমানের টয়লেট পাবেন না। তাই খুব জরুরি হলে অস্থায়ী নির্মিত বা গ্রামের কোনো বাড়িতে যাওয়ার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে।
  • ট্রলার ৫ টা ৩০ এ এবং নৌকা চলাচল ৬ টার পর বন্ধ হয়ে যায়।

শেষ কথা

একটি লাল টকটকে গোলাপ দেখলে বা ঘ্রান নিলেই অনেক সতেজ লাগে, তাই না? গোলাপ গ্রামে তো পুরো বাগানটাই পেয়ে যাবেন 😉।

ভালবাসার টকটকে লাল গোলাপ কখনও প্রিয়জনকে দিয়েছেন? গোলাপ গ্রাম গেলে পুরো বাগানটাই তাকে দেখাতে পারবেন! বিশাল এক তোড়া গোলাপ উপহার দিয়ে বলতে পারবেন, “ভালবাসি” 😛।

আমি যে এত কষ্ট করে লিখলাম আপনার জন্য, আমি কি কিচ্ছু পাবনা 😑?

ছোট্ট অনুরোধ।

ভ্রমণচারীর একটা ফেসবুক গ্রুপ আছে, যুক্ত হয়ে আপনি ভ্রমণ বিষয়ক তথ্য জানতে পারবেন আর আমাদেরও লাভ, মাঝেমাঝে বিভিন্ন অফারের প্রমোশন চালাব, হে হে। এখানে ক্লিক করে যুক্ত হোন।

আর হ্যা, কোনো প্রশ্ন থাকলে বা আমার লেখা পড়ে কোনো বাহবা দিতে চাইলে নিচে মন্তব্য করেন :3।

বারবার জিজ্ঞাসিত প্রশ্নসমূহ

গোলাপ গ্রাম কিভাবে যাব?

গোলাপ গ্রাম কিভাবে যাব

প্রথমে মিরপুর-১ নাম্বার আসুন। মাজার রোডের দিকে ৫ মিনিট হাটুন। অতঃপর চারাবাগগামী লেগুনায় উঠে পড়ুন। ২০ টাকা ভাড়ায় আকরান বাজার নামবেন। এরপর রিকশা অথবা অটো নিয়ে গোলাপ গ্রাম চলে যান।

গোলাপ গ্রাম কোথায় অবস্থিত?

গোলাপ গ্রামের অবস্থান সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের সাদুল্যপুর গ্রামে।

গোলাপ গ্রাম গোলাপের দাম কেমন?

ছোট ছোট গোলাপের তোড়ার দাম পড়বে ১০-৩০ টাকা। ৩০০ ফুল বিশিষ্ট বড় বড় থোকার দাম ৩০০-৪০০ টাকার মত।

ভ্রমণ, লেখালেখি ও সাংবাদিকতায় আসক্ত। কাচ্চির আলু আর দুধ খেজুরে পিঠার পাগল। আমাকে খুজে পাবেন ফেসবুক, টুইটারে।

Twitter | Facebook

মনের কথা বলুন

ভ্রমণচারীর সাপ্তাহিক নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন

সপ্তাহের সেরা লেখাগুলি সবার আগে পৌছে আপনার কাছে!

অভিনন্দন! আপনি সফলভাবে সাবস্ক্রাইব করে ফেলেছেন।

Pin It on Pinterest

Shares
Share This