বসুন্ধরা সিটি ও কিছু দরকারী তথ্যাবলী

বসুন্ধরা সিটি কিংবা বসুন্ধরা শপিং (Bashundhara city) মল বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শপিং মল। ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শপিং কমপ্লেক্সটিতে প্রতিদিন গড়ে ৫০,০০০ দর্শকের সমাগম ঘটে যা এটিকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বিপণীবিতানে পরিনত করেছে। ২১ তলা বিশিষ্ট নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত শপিং কমপ্লেক্সটি দেশের অন্যতম বৃহৎ ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন।

বসুন্ধরা সিটি

বসুন্ধরা সিটি কিভাবে যাব?

রাজধানী ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে বাস, সিএনজি বা রিকশায় চড়ে পান্থপথ মোড়ে নেমে নিমিষেই বসুন্ধরা সিটিতে যেতে পারবেন। পান্থপথ মোড়ে নেমে সোনারগাঁও হোটেলের বিপরীত সড়ক বরাবর অর্থাৎ গ্রীনরোড বরারর ৫০ গজ আগালেই হাতের বাম পাশে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ শপিং মলটির সুউচ্চ ভবনটি চোখে পড়বে।

বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স কোথায় অবস্থিত?

রাজধানী ঢাকার পান্থপথে বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের অবস্থান। এটি ঢাকার ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজারের সন্নিকটে এবং ফার্মগেট-শাহবাগ অভিমুখী সড়কের পান্থপথ সিগনালের পাশে ও হোটেল সোনারগাঁও থেকে বিপরীত দিকে গ্রীনরোড বরাবর ৫০ গজ হাটা দূরত্বে অবস্থিত।

বসুন্ধরা শপিং মলের যে একটি মাত্র সময়সূচী আপনার লাগবে

বসুন্ধরা শপিং মলের সাপ্তাহিক বন্ধ মঙ্গলবার। আর বুধবার অর্ধদিবস খোলা থাকে। সপ্তাহের বাকি দিনগুলো অর্থাৎ মঙ্গল ও বুধবার ব্যতীত বাকি ৫ দিন পূর্নদিবস খোলা থাকে। পূর্নদিবসে সকাল ৯ টা ৩০ থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে, ফাস্টফুডের দোকান রাত ১০টা অব্দি চালু থাকে।

বসুন্ধরা শপিং মলের অষ্টম তলায় অবস্থিত স্টার সিনেপ্লেক্স সপ্তাহের ৭ দিন খোলা থাকে।

বসুন্ধরা সিটি শপিং মল
বসুন্ধরা শপিং মলের সময়সূচী ও কিছু তথ্যাবলী
তথ্যসূত্রঃ অনলাইন ঢাকা

ছবিটি আপনার সাইটে ব্যাবহার করার জন্য নিচের এই এমবেড কোডটি ব্যাবহার করুন

<a href="https://vromonchari.com/blog/bn/wp-content/uploads/2020/12/বসুন্ধরা-সিটি-শপিং-মল.png" title="বসুন্ধরা শপিং মলের সময়সূচী"><img src="https://vromonchari.com/blog/bn/wp-content/uploads/2020/12/বসুন্ধরা-সিটি-শপিং-মল.png" width="100%" style="max-width: 850px;" alt="বসুন্ধরা শপিং মলের সময়সূচী"></a><br>Provided by <a href="vromonchari.com/blog/bn" target="_blank" rel="noopener noreferrer">ভ্রমণচারী</a>


বসুন্ধরা  শপিং মলের শুরুর গল্পটা

বসুন্ধরা গ্রুপের হাত ধরে শপিং মলটি ২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করে। তখন এটি দেশের সর্ববৃহৎ শপিং মলের খ্যাতি অর্জন করে। বিখ্যাত স্থপতি মুস্তফা খালিদ পলাশ এবং মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ ২১ তলা বিশিষ্ট ভবনটির ডিজাইন করেন। ১০০ মিলিয়ন ডলারের চেয়েও বেশি ব্যয়ে নির্মিত এই শপিং কমপ্লেক্সটির নির্মান কাজ আরম্ভ হয় ১৯৯৮ সালে যা কাজ সমাপ্তের পর ২০০৪ সালের ৬-ই আগস্ট সর্বসাধারনের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

বসুন্ধরা সিটির বিস্তারিতঃ কোন তলায় কি আছে?

বস্তুত এটি একটি শপিং মল। সূতরাং অনুমেয় এখানে ঘুরে বেড়ানোর চেয়ে অনেক কিছু এক্সপ্লোর করে দেখার আছে। অধিকাংশ মানুষজনও তাই কেনাকাটার পাশাপাশি ঘুরতে আসতেই পছন্দ করে। তবে, ২১ তলাবিশিষ্ট বসুন্ধরা শপিং মলের কোন তলায় কি আছে সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারনা না থাকায় অযথায় সময়ের অপব্যয় হয় অনেকের।

কিন্তু, চিন্তা করবেন না! আমি এখনই বলে দিচ্ছি সবকিছু।

২১ তলাবিশিষ্ট বসুন্ধরা সিটির (bashundhara city) ৮ তলা শপিং মলের জন্য বরাদ্দ। বাকী ফ্লোরগুলোতে বসুন্ধরা গ্রুপের বিভিন্ন দাপ্তরিক কার্যক্রম চলে। এর মধ্যে ২ তলা মাটির নিচে, যা মূলত গাড়ী পার্কিংয়ে ব্যাবহৃত হয়।

বসুন্ধরা শপিং মলের ৪ টি ব্লকে বিভক্ত ৮ টি ফ্লোরে (লেভেলে) মোট ২৯০০ শপ, চেইন শপ ও শোরুম রয়েছে। যেখানে স্টার সিনেপ্লেক্সের অবস্থান ৮ নাম্বার  লেভেলের ডি ব্লকে।

আর দেরী কেন? আসুন বলে দেই কোন লেভেলে কি কি রয়েছে!

লেভেল-১

১ নাম্বার লেভেল জুড়ে রয়েছে বিভিন্ন তৈরি পোশাকের দোকান। দেশি-বিদেশী বিখ্যত সব ব্রান্ডের শোরুম রয়েছে লেভেলটিতে। পাশাপাশি কসমেটিক্সের দোকানগুলোও আছে ফ্লোরটিতে। এই লেভেলে মোট ৩৯২ টি দোকান রয়েছে।

লেভেল-২

এই লেভেল জুড়েও রয়েছে তৈরি পোশাকের দোকান। দোকানগুলো ছেলেদের তৈরি পোশাকের। কিছু মেয়েদের পোশাকের দোকানও রয়েছে তবে বেশিরভাগই ছেলেদের। লেভেলটিতে ৫৩৭ টি দোকান রয়েছে।

লেভেল-৩

লেভেল তিনও পোশাকের দোকান দিয়ে সাজানো। তবে বিশেষত্ব হচ্ছে এই লেভেলের শপ গুলোতে তৈরি পোশাকের পাশাপাছি গজ কাপড় পাওয়া যায়। লেভেল-৩ তে ৪৫৭ টি দোকান আছে।

লেভেল-৪

চতুর্থ লেভেলটি মেয়েদের তৈরি পোশাকের জন্য ডেডিকেটেড। এখানে মেয়েদের সেলোয়ার-কামিজ, শাড়ি ও গিফট শপ রয়েছে। লেভেলজুড়ে মোট দোকান রয়েছে ৪৫০ টি।

লেভেল-৫

বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের এই লেভেলটি আপনার জন্য সোনার গয়নার পসরা নিয়ে বসে আছে। স্বর্ণলংকার ও ডায়মন্ডের  বিখ্যাত সব জুয়েলারীর দোকান পাবেন লেভেল-৫ এ। লেভেল জুড়ে ৪৬৯ টি শপ  রয়েছে।

লেভেল-৬

এই তলায় ভেরাইটিজ দোকান রয়েছে। বাদ্যযন্ত্র, পোশাক, জুতা ছাড়াও টুকিটাকি বিভিন্ন দরকারি জিনিসের দোকান রয়েছে লেভেল-৬ এ। এই লেভেলে দোকান সংখ্যা ২৬৯ টি।

লেভেল-৭

লেভেল- ৭ এর বেশিরভাগ জায়গাজুড়ে রয়েছে জুতার দোকান। মোট ৯ টি মেগামল রয়েছে এই লেভেলে।

লেভেল-৮

আট নাম্বার লেভেল জুড়ে রয়েছে নানারকম খাবারের দোকান ও স্টার সিনেপ্লেক্সের অবস্থান।

স্টার সিনেপ্লেক্স

বসুন্ধরা সিটির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা নামটি হল স্টার সিনেপ্লেক্স। স্টার সিনেপ্লেক্স ছাড়া যেন বসুন্ধরা সিটির বর্ননা অপূর্ন থেকে যায়।

প্রথমত বসুন্ধরা সিটির লেভেল-৮ এ স্টার সিনেপ্লেক্সের অবস্থান। সপ্তাহের ৭ দিন সকাল ১০ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত ২৫০ আসন বিশিষ্ট জনপ্রিয় এই সিনেমা হলটি খোলা থাকে। টিকেট কেনার জন্য সিনেপ্লেক্সের অর্থাৎ ৮ নাম্বার লেভেলের ডি-ব্লকে ডান হাতে টিকিট কাউন্টার রয়েছে। সিনপ্লেক্স গ্রাউন্ডে ফাস্টফুড শপও রয়েছে।

২০২০ সালে শপিং কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের জারিকৃত নোটিস অনুযায়ী স্টার সিনেপ্লেক্স বসুন্ধরা শপিং মল থেকে সরিয়ে নিবে।

বসুন্ধরা শপিং মলের আরও কিছু দরকারী তথ্যাবলী

বসুন্ধরা সিটির পার্কিং ব্যাবস্থা

শপিং কমপ্লেক্সটির গ্রাউন্ড ফ্লোরে একসাথে ১২০০ গাড়ি পার্কিং করা যায়। পার্কিংয়ের খরচটা আপনাকে বলে দিচ্ছি।

প্রাইভেট, মাইক্রোবাস ও জীপ পার্কিং করতে ঘন্টাপ্রতি ৩০ টাকা চার্জ দিতে হয়। তবে মোটরসাইকেল পার্কিং খরচ বেশ কম। মাত্র ২০ টাকায় সারাদিন মোটরবাইক পার্ক করে রাখতে পারবেন।

নামাজের স্থান

কোনো কারনে শপিং মলে দেরি হয়ে গেছে, তবে নামাজ কোথায় পড়ব তা নিয়ে চিন্তা করা লাগবে না। কারন বসুন্ধরা শপিং মলের ২য় তলার ‘এ’-ব্লকে মহিলাদের জন্য এবং ৬ষ্ঠ তলার ‘এ’ ব্লকে পুরুষদের জন্য নামাজ পড়ার নির্ধারিত জায়গা রয়েছে।

এটিএম বুথ

শপিং মলে এটিএম বুথের প্রয়োজনীয়তা অত্যাবশ্যক। বসুন্ধরা শপিং মলে নির্বিঘ্নে নগদ অর্থ উত্তোলনের জন্য ৪ টি এটিএম বুথ রয়েছে। কোন ব্যাংকের কোন বুথ কোথায় আছে, তা আপনাকে বলে দেই। ২য় তলার ‘এ’-ব্লকে পাবেন সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ১ টি বুথ,  ৩য় তলায় পাবেন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের একটি বুথ। জনপ্রিয় শপিং কার্ড প্রোভাইডার ডাচ বাংলা ব্যাংকেরটা আলাদা করে বলি। তাদের ২টি বুথ রয়েছে ৭ তলায় এবং ৮ তলার ‘ডি’ ব্লকে।

টয়লেট ব্যবস্থা

প্রথমে ভাবলাম এই টপিক টা বলার কি আছে। পরে আবার মনে হলো বলার প্রয়োজনীয়তা থাকতে পারে।

যাহোক, বসুন্ধরা মলের প্রতিটা ফ্লোরের ‘এ’, ‘বি’ ও ‘ডি’ ব্লকে ২টি করে টয়লেট রয়েছে। টয়লেটগুলি নিয়মিত পরিস্কার করা হয় এবং বেশ পরিচ্ছন্নই মনে হয়েছিল।

সমাপ্তি

বসুন্ধরা সিটি শপিং (bashundhara city) মলটি বাংলাদেশের প্রথম দিককার কোনো বহুতল ভবন ও আধুনিক বিপণীবিতান যা একইসাথে তৃতীয় বিশ্বের অনুন্নত দেশ হিসাবে নিজের ক্রমবর্ধমান উন্নয়নকে জানান দেয়। সাথে সাথে “তলাবিহীন ঝুড়ি” আখ্যায়িত বাংলাদেশ আধুনিক স্থাপত্য যুগে আক্ষরিক অর্থে নিজের স্বীয় অবস্থান ঘোযনা দেয়।

সেই গৌরবের সারথী এবং বিনির্মিতা বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতি তাই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে যবনিপাত টানছি বসুন্ধরা সিটি নামক অধ্যায়ের।

জানেন কি? ভ্রমণচারীর ফেসবুক গ্রুপে ভ্রমণ সম্পর্কিত সমসাময়িক যেকোনো প্রশ্ন করে তাৎক্ষনিক উত্তর পাওয়া যায়। যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন

ভ্রমণ, লেখালেখি ও সাংবাদিকতায় আসক্ত। কাচ্চির আলু আর দুধ খেজুরে পিঠার পাগল। আমাকে খুজে পাবেন ফেসবুক, টুইটারে।

Twitter | Facebook

মনের কথা বলুন

ভ্রমণচারীর সাপ্তাহিক নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন

প্রতি সপ্তাহের সেরা গন্তব্যগুলো নিয়ে লেখা সবার আগে চলে যাবে আপনার ইনবক্সে।

অভিনন্দন! আপনি সফলভাবে সাবস্ক্রাইব করে ফেলেছেন।

Pin It on Pinterest

Shares
Share This