ভ্রমণচারীর ফেসবুক গ্রুপে এখনও যূক্ত হন নাই! এক্ষুনি যূক্ত হোন

মহেশখালী দ্বীপ ভ্রমণের আদ্যপান্ত

ডিসেম্বর ২০১৯। মাসের একদম শেষ। এই সময়ে পুরোদমে সিজন চলছিল। এর কারন ডিসেম্বরের এই সময়ে বাংলাদেশে কিন্ডারগার্ডেন থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সবকিছু ছুটি থাকে। উপরন্তু শীতের প্রকোপ ততোটা জোরালো থাকেনা।

অনেক মানুষজন নিরিবিলি পরিবেশ পছন্দ করে, কোলাহলের মধ্যে ঘোরাঘুরি করতে না। তবে আমার ক্ষেত্রে একটু ব্যতিক্রম। আমার কেন জানি পর্যটকে পর্যদূস্ত কোলাহল মত্ত এই পরিবেশটাকে অসাধারন মনে হয়।

যাইহোক, সেবার ঘুরতে গিয়েছিলাম বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দ্বীপ কক্সবাজারের মহেশখালীতে। দেশের একমাত্র পাহাড়ি ও অফিসিয়ালি প্রথম ডিজিটাল আইল্যান্ড মহেশখালীতে এটিই ছিল জীবনের প্রথম ভ্রমন অভিজ্ঞতা।

আজ পুরো আর্টিকেলে মহেশখালী দ্বীপ ভ্রমণের আদ্যপান্ত শোনাব আপনাকে। সেইসাথে মহেশখালী আইল্যান্ড ভ্রমণের সকল দিকনির্দেশনা তো থাকছেই।

লেটস সি, আপনার ভাল্লাগে কিনা! তবে, বোরিং মনে হলে অবশ্যই অবশ্যই কমেন্ট করে বলবেন, ভাই আপনি এতো বাজে লিখেন কেন! হ্যাঁ, কমেন্ট বাক্সের ঢাকনি উল্টানো আছে 😛।

মহেশখালী কিভাবে যাবেন

মহেশখালী যেতে হলে কক্সবাজার চলে আসুন আগে। কিছু বাস কক্সবাজার টার্মিনাল পর্যন্ত যায় আবার অনেক বাস কলাতলী পর্যন্ত যায়।

মহেশখালী কিভাবে যাব
৬ নং জেটি ঘাট

যেখানেই নামুন না কেন আপনাকে ৬ নং জেটি ঘাটে আসতে হবে। কলাতলী এবং টার্মিনাল উভয় স্থান থেকেই অটোতে/সিএনজি করে ৬ নং জেটি ঘাটে যেতে পারবেন। কলাতলী থেকে ৮০ থেকে ১২০ টাকায় এবং টার্মিনাল থেকে ১৫০-২৫০ টাকায় ৬ নং ঘাটে যেতে পারবেন। মনে রাখবেন অটো, সিএনজি ও রিকশাগুলো ন্যায্য ভাড়া থেকে প্রায় দেড়-দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করে। তাই অবশ্যই দরকষাকযি করে ভাড়া ঠিক করবেন অন্যথায় বেশি টাকা গুনতে হবে।

৬ নং জেটি ঘাঁট থেকে স্পিডবোট বা ট্রলারে করে মহেশখালী দ্বীপে যাওয়া যায়। সিজনের সময় জেটি ঘাটে প্রচুর ভিড় থাকে তাই স্পিডবোট পেতে বেগ পেতে হয় যখন আপনি দলগতভাবে না হয়ে একাকি যাবেন বিশেষত তখন। তবে ১০-১২ জন একসাথে থাকলে স্পিডবোট রিজার্ভ করে খুব দ্রুতই চলে যাওয়া যায়। কিন্তু একাকী বা ২-৩ জন গেলে বোটের জন্য বেশ খানিকটা সময় অপেক্ষা করতে হয়।

এ সমস্যা থেকে পরিত্রান পেতে তাই একটা সেফ সাজেশান হল একটুঁ সকাল সকাল জেটি ঘাটে আসা এবং আরেকটা হল আপনার মত অনেকেই একা একা যাবে- চেষ্টা করুন তাদের সাথে কথা বলে ১০ জন হয়ে একটি বোট নেওয়া। উল্লেখ্য, স্পিডবোটে ভাড়া ৭৫ টাকা আর ট্রলারে ৩০ টাকা। তবে রিজার্ভ নিলে ১২০০-১৪০০ টাকা নিবে সেক্ষেত্রে খরচ প্রতিজনের ১০০ এর বেশি হয়ে যাবে।

স্পিডবোটে করে দ্বীপে আসতে ১৫(+-)২ মিনিট লাগে। ট্রলারে ৩০ মিনিট লেগে যায়।

বোট বা ট্রলার থেকে নেমে ব্রিজ দেখতে পাবেন। ব্রিজের শুরুর মাথায় রিকশা/ইজিবাইক পাবেন। মহেশখালীর ৫ টা স্পট ঘুরিয়ে আনতে সিজনে তাই প্রচুর ভাড়া চাইতে পারে যেমন ৭৫০-১০০০ টাকা। ভুলেও এই ভাড়ায় যাবেন না। ৫০০ টাকার ভিতর নেওয়ার চেষ্টা করুন। যদি এই ভাড়ায় কেউ রাজি না হয় তবে ব্রিজ দিয়ে হেটে শেষ মাথায় চলে আসুন। এখানে এই ভাড়ায় অবশ্যই পেয়ে যাবেন।

ভৌগলিক অবস্থান

মহেশখালী ম্যাপ
মহেশখালী দ্বীপের ম্যাপ (গুগল ম্যাপ থেকে নেওয়া)


মহেশখালী কক্সবাজার জেলার একটি দ্বীপগঠিত উপজেলা যা কক্সবাজার শহর থেকে মাত্র ১২ কিমি দূরে অবস্থিত। এই দ্বীপটির তিনদিকে বঙ্গোপসাগর এবং একদিক পাতা বাঁকখালী নদী দ্বারা বেষ্টিত। মহেশখালী দ্বীপের আয়তন ৩৬২.১৮ কি.মি। দ্বীপটির জনসংখ্যা ৩২১২১৮ জন।

মহেশখালী উপজেলা-মাতারবাড়ি, সোনাদিয়া, ধলঘাটা ও মহেশখালী এ চারটি দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত। উল্লেখ্য ১৯৫৪ সালে গঠিত মহেশখালী থানা ১৯৮৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর উপজেলাতে রুপান্তর করা হয়।

মহেশখালীর উত্তর-পূর্বে এবং সবচেয়ে কাছের উপজেলা হল চকরিয়া। পাতা বাঁকখালী নদীর উপরের স্থাপিত ব্রিজ চকরিয়া উপজেলার সাথে মহেশখালীকে সংযুক্ত করেছে। উত্তর-পশ্চিমে কুতুবদিয়া উপজেলা এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গপোসাগর।

মহেশখালীর নামকরন

গবেষকদের মতে, ১৫৫৯ সালের বিপুল ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে মূল ভূখন্ড থেকে আলাদা হয়ে সৃষ্টি হয় দ্বীপটির।

ঐতিহাসিকগণের মতে প্রায় ২০০ বছর পূর্বে বৌদ্ধ সেন মহেশ্বরের নামানুসারে মহেশখালী দ্বীপটির নামকরন করা হয়। প্রচলিত আরেকটি মতানুসারে, শিবের অপর নাম মহেশ অনুসারে দ্বীপটির নামকরন করা হয়েছে।

মহেশখালীর দর্শনীয় স্থান

মহেশখালীতে জনপ্রিয় ৫ টি দর্শনীয় স্থান রয়েছে। দ্বীপটি মূলত শুটকি, লবন ও পানের ব্যাবসার প্রধান কেন্দ্র।

স্বর্ণমন্দির

আমার কাছে এই স্বর্ণমন্দিরটি অনেক ভাল লেগেছে। এখানে গৌতম বুদ্ধের স্বর্ণের মূর্তির দেখা পাবেন।

স্বর্ণ মন্দির
মহেশখালীর স্বর্ণমন্দির

অন্য বৌদ্ধ মন্দিরগুলোর মতো একটা মূর্তি না বরং এই মন্দিরটাতে আপনি গৌতম বুদ্ধের অনেকগুলি মূর্তি দেখতে পাবেন। মূর্তি গুলোতে গৌতম বুদ্ধকে বিভিন্ন অবস্থানে দেখতে পাবেন।

বুদ্ধমন্দির

মহেশখালী জেটিঘাট থেকে সবচেয়ে স্বল্প দূরত্বে রয়েছে এই স্পটটি। এই বৌদ্ধমন্দিরও অনেক পুরাতন যদিও এই মন্দিরের উন্নয়ন কাজে হয়েছে খুব বেশিদিন হয়নি। আমি ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে যখন গিয়েছিলাম তখনও কিছু অংশের নির্মাণ কাজ চলছিল।

আনন্দ মিত্ত বৌদ্ধ মন্দির
আনন্দ মিত্ত বৌদ্ধ মন্দিরের সিংহ দুয়ার

এই মন্দিরটিতে ঢুকতে ডানহাতেই দেখতে পাবেন গৌতম বুদ্ধের সুন্দর একটি মূর্তি। বামহাতে সামনেই বেদির উপর খাড়া একটি স্তম্ভ দেখতে পাবেন।

এরপর সোজা এগিয়ে গেলে ডান হাতেই মন্দিরের প্রবেশদ্বার দেখতে পাবেন। প্রবেশদ্বারেই দুইটি সিংহের মূর্তির দেখা পাবেন। মন্দিরটাও দেখতে সুন্দর। সবমিলিয়ে খারাপ লাগবে না।

আদিনাথ মন্দির

মহেশখালী দ্বীপের মৈনাক পাহাড়ের চুড়ায় অবস্থিত এই মন্দিরটি হিন্দু-ধর্মাবলাম্বীদের অন্যতম তীর্থস্থান। মহেশখালী উপজেলার গোরকঘাটা ইউনিয়নের ঠাকুরতলা গ্রামে এই মন্দিরটি অবস্থিত। সমুদ্র সমতল থেকে মন্দিরটির উচ্চতা ৮৫.৩ মিটার। মন্দিরটিতে উঠতে আপনাকে তাই ৬৯ টি সিড়ি ভাঙতে হবে।

আদিনাথ মন্দির
আদিনাথ মন্দিরের ফটক থেকে তুলেছিলাম

ঐতিহাসিক এই মন্দিরটি সারাদেশ থেকে ভক্তদের আগমনের ফলে পুজা, নামযোগ্য ও প্রসাদ বিতরনে মুখর হয়ে থাকে। মন্দিরটিতে গেলে আপনি যেমন সমৃদ্ধ ধর্মীয় ইতিহাসের সাক্ষী হতে পারবেন তেমনি মৈনাক পাহাড়ের চূড়ায় আরোহনের আস্বাদন নিতে পারবেন, যেটা বেশ রোমাঞ্চকর লেগেছিল আমার কাছে।

সোনাদিয়া দ্বীপ (sonadia island)

লাল কাকড়ার দ্বীপখ্যাত অসাধারন সুন্দর এই দ্বীপের আয়তন মাত্র ৯ বর্গ কিমি। মহেশখালী উপজেলার দক্ষিণে হোয়ানাকে ইউনিয়নে অবস্থিত। সোনাদিয়া দ্বীপের তিনদিকে সমুদ্র এবং একদিকে রয়েছে যা মহেশখালীর সাথে সোনাদিয়াকে বিচ্ছিন্ন করেছে।

সোনাদিয়ার সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যাপার হল এখান থেকে আপনি সমুদ্র সৈকতের মজা উপভোগ করতে পারবেন। সমুদ্র বিলাস উপভোগ করার জন্য দ্বীপটি আদর্শ স্থান।বিচিত্র প্রজাতির সামুদ্রিক পাখি, লাল-কাকড়া, ছোট-বড় খাল, ম্যানগ্রোভ ঝোপ দ্বীপটিকে অনন্য করে তুলেছে।

শ্যুটিং স্পট ও ম্যানগ্রোভ বন

সম্ভবত এটিই মহেশখালী দ্বিপকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ম্যানগ্রোভ বনের উপর দিয়ে নির্মিত শুটিং ব্রিজটি আপনাকে মোহিত করবে। ব্রিজের মাঝে কিছু কিছু জায়গা পাবেন যেখান দিয়ে নেমে এই বনের গাছপালার খুব কাছে যেতে পারবেন।

মহেশখালী দ্বীপ ভ্রমন
শ্যুটিং ব্রিজের উপর থেকে

ব্রিজের ঠিক মাথায় দাড়িয়ে বন, নদী আর সমুদ্রের মিতালী দেখতে পাবেন, পারবেন উদাস মনে দাড়িয়ে বাতাস খেতে। এখান থেকে অসাধারন সব ল্যান্ডস্কেপ ভিউ নিতে পারবেন। প্রকৃতির উজাড় করে দেওয়া সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি ছবি তোলা ও ভিডিওগ্রাফির জন্যে এটি আদর্শ জায়গা.।

লবন ক্ষেত

দ্বীপটিতে লবন পানি প্রবেশের এবং নিয়ন্ত্রনের দারুন প্রাকৃতিক ব্যবস্থা রয়েছে। কারন দ্বীপটির একটি অংশে রয়েছে নদী যা যেমনি বিপুল পানি দিয়ে ভাসিয়ে দেয় না তেমনি সমুদ্রের লবনাক্ত পানি বয়ে নিয়ে আসে। লবন চাষের জন্য উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায় বিধায় এখানে প্রচুর পরিমানে লবন চাষ হয়।

বিভিন্ন স্পট ঘুরে দেখার সময় রাস্তার পাশে লবন ক্ষেত দেখতে পাবেন। বিশেষ করে যখন আদিনাথ মন্দিরে যাবেন তখন। চাইলে টমটম চালককে( ইজিবাইক) বলতে পারেন সুবিধাজনক কোনো লবন ক্ষেতে নিয়ে যেতে। নতুন কিছু সুন্দর অভিজ্ঞতা পাবেন আপনি।

শ্যুটকি আড়ৎ

প্রখর রৌদ্রতাপ থাকার কারনে মহেশখালীতে প্রচুর পরিমানে শুটকি উৎপাদিত হয়।

পান বরজ

পান বরজের সাথে অনেকে পরিচিত আবার অনেকেই পরিচিত না। পান বরজ হল পান বাগানের প্রচলিত নাম।

পানের বরজ কিন্তু সাধারন গাছের মত লাগালে হয়না বরং লতানো পান গাছগুলোকে কোনো অবলম্বনে আচ্ছাদন করে গড়ে তুলতে হয়। এমনকি সরাসরি সূর্যের আলোতেও পান গাছ জন্মাতে পারেনা। মুলত এ কারনেই পান গাছকে বরজ আকারে লাগাতে হয়।

এত সব কিছু দিয়ে আমি মুলত পান বরজের অপরুপ শৈল্পিক দিকটি তুলে ধরতে চেষ্টা করছি। কারন বুঝতেই পারছেন পান বরজ বানানো এবং সেখানে পানের চারা বড় করে তোলা মোটেও সহজ কোনো ব্যাপার না।

আমি মনে করি পানের বরজের এই শৈল্পিক দিকটি প্রতিটি পর্যটকেরই ঘুরে দেখে অনুধাবন করা উচিত। আর মহেশখালী পানের জন্য যেহেতু বিখ্যাত তাই এখানে প্রচুর পান বরজ দেখতে পাবেন।

আমি মনে আপনি পান বরজ ঘুরে দেখতে পারেন, খারাপ লাগবে নাহ।

মহেশখালীতে কি কি খাবেন

 যেমনটা বলছিলাম, মহেশখালীর মিস্টি পান দেশখ্যাত। তাই কোনোভাবেই এই পানের স্বাদ নেওয়া মিস করা চলবে না। এছাড়া মহেশখালীর বিখ্যাত খাবারগুলোর হল- মিস্টি ডাব, শুটকি। মহেশখালীকে শুটকি উৎপাদনের রাজধানী বললে ভুল হবেনা কারন দেশের সিংহভাগ শুটকি এখানেই উৎপন্ন হয়। সারাদেশ থেকে একারনে ব্যাবসায়ীরা দ্বীপটিতে শুটকি কিনতে ভিড় জমায়। মহেশখালী গেলে তাই স্থানীয় রেস্টুরেন্টে ফ্রেশ শুটকি খেতে পারেন।

ভ্রমনচারী টিপস

  •  দরকষাকষি করার সময় আপনার কনফিডেন্স ধরে রাখবেন। কেননা একটুঁ কনফিউজড হলে তারা আপনার সাথে দরকষাকষিকে অপ্রয়োজনীয় মনে করবে।
  • কক্সবাজার থেকে মহেশখালী যাবার সময় জেটি ঘাটে হাতে কিছু বাফার টাইম নিয়ে আসুন কেননা সিজনে এখানে স্পিডবোট বা ট্রলার পেতে দেরি হতে পারে।
  • স্পিডবোটের ভাড়া বেশি নিলেও একসাথে ৮-১০ জন থাকলে রিজার্ভ নিতে পারেন। এতে করে জেটিঘাটে অহেতুক সময় নষ্ট হবেনা।
  • একা বা ২-৩ জন একসাথে গেলে আপনি মহেশখালীর লোকালদের সাথে যাবার জন্য অপেক্ষা করুন। এতে করে আপনার ভাড়া পড়বে ৭৫ টাকা মাত্র। অথবা জেটিঘাটে অসহায়ের মতো না দাড়িয়ে থেকে আপনি চারপাশে আপনার মতো ১-২ জন একসাথে যাবে তাদেরকে একসাথে জড় করতে পারেন। তাহলে লোকাল যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন পড়বে না।
  • অনেক সময় দেখা যায় ধারন ক্ষমতার চেয়ে বেশি মানুষ স্পিডবোটে ওঠে। মনে রাখেবেন মহেশখালী যাত্রাপথে পানি খুবই উত্তাল পাবেন যা অতিরিক্ত বোঝাই এর কারনে মারাত্নক দুর্ঘটনা ডেকে আনতে যথেষ্ট।
  • মহেশখালীতে বৌদ্ধ মন্দিরগুলোতে খালি পায়ে প্রবেশ করতে হয়। আমার মোজাসহ জুতা পরে যাওয়াতে তাই বেশ ভোগান্তিই হয়েছিল বলা চলে। এজন্য মোজা ছাড়া জুতা অথবা স্লিপার পরে যাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

ভ্রমনচারী রেটিংস

৮/১০

আমার অভিজ্ঞতা

মহেশখালী ভ্রমন
শুটিং ব্রিজের উপরে আমি

সত্যি কথা বলতে কি, সেন্টমার্টিন দ্বীপের পর কক্সবাজার ভ্রমণের সবচেয়ে উত্তেজনাকর মুহূর্ত পার করেছি মহেশখালীতে। কক্সবাজারের অন্যান্য দর্শনীয় স্থান যেমন ইনানী বিচ, লাবনী পয়েন্ট, হিমছড়ির চেয়ে অনেকগুন এক্সাইটিং ছিল মহেশখালী ভ্রমনের অভিজ্ঞতা।

বিশেষ করে স্পিডবোট রাইডিং। ওয়াও! সেটা আমার কাছে এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা ছিল। শুধু স্পিড বোট রাইড দেবার জন্যে হলেও মহেশখালীতে ভ্রমণ করার দাবি রাখে। সাগর মোহনার বিশাল বিশাল ঢেউ যেন আত্না কাপিয়ে দেয়। আমার বেশ ভয় লেগেছিল যা আমাকে সেই অভিজ্ঞতাকে অনেক বছর মনে করিয়ে রাখবে।

এছাড়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহাসিক আদিনাথ মন্দির, রাখাইন মন্দির ও স্বর্ণমন্দির ‘মাস্ট ভিসিট’ তালিকায় পড়ে যায়। সেইসাথে শ্যুটিং স্পটটাও যেন মনের মত।

সবমিলিয়ে এই দ্বীপ ভ্রমনের অভিজ্ঞতা এক লাইনে প্রকাশ করতে হলে বলব মহেশখালী ভ্রমণ আমার বেশ রোমাঞ্চকর ও উপভোগ্য লেগেছিল।

মহেশখালীতে কোথায় থাকবেন

মহেশখালী দ্বীপে রাত্রিযাপনের জন্য তেমন ভালো কোনো হোটেল নাই। তবে মহেশখালীতে সরকারী ডাকবাংলো রয়েছে। এখানে থাকতে পারেন। এছাড়া থাকার উপযোগী এমন কিছু হোটেলও খুজলে পেয়ে যাবেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মহেশখালীতে প্রচুর বিনিয়োগ হচ্ছে। বেশকিছু ভালো মানের হোটেল এখন নির্মাণাধীন। আশা করা যায় ২০২০ সালের সিজনের ভিতরে ভালো মানের কিছু হোটেল সেবাযোগ্য অবস্থায় পাওয়া যাবে।

তবে আনন্দের ব্যাপার হলো কক্সবাজার থেকে মহেশখালী যেতে সর্বসাকুল্লে মাত্র ৩০ মিনিট লাগে। তাছাড়া সবগুলো স্পট ঘুরে দেখতে খুব বেশি সময়ও লাগেনা। তাই দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসা যায়।

শেষকথা

যারা কক্সবাজারে বিচ দেখতে দেখতে- লাবনী, ইনানী ঘুরতে ঘুরতে বিরক্ত হয়ে গেছেন তারা মহেশখালী আইল্যান্ডে এট্টা ঢু দিয়ে আসতে পারেন। আর যারা একইসাথে নিসর্গপ্রেমিক, প্রকৃতিপ্রেমিক ও রোমাঞ্চপ্রিয় তাদের জন্য মহেশখালী গোল্ড মাইন।

আমার প্রশ্ন আপনি কোনটা?

[উত্তর দেবার জন্য পুরো কমেন্ট বক্স খালি আছে আপনার লাইগা]

ভ্রমণ, লেখালেখি ও সাংবাদিকতায় আসক্ত। কাচ্চির আলু আর দুধ খেজুরে পিঠার পাগল। আমাকে খুজে পাবেন ফেসবুক, টুইটারে।

Twitter | Facebook

মনের কথা বলুন

ভ্রমণচারীর সাপ্তাহিক নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন

সপ্তাহের সেরা লেখাগুলি সবার আগে পৌছে আপনার কাছে!

অভিনন্দন! আপনি সফলভাবে সাবস্ক্রাইব করে ফেলেছেন।

Pin It on Pinterest

Shares
Share This